ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা দূর করার ১০টি উপায়

ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা দূর করার ১০টি উপায়

ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা দূর করার ১০টি উপায়

ডিপ্রেশন বা হতাশা সফল হওয়ার পথে বাঁধা সৃষ্টি করে, কোন একটা লক্ষ্যে স্থির থাকতে দেয় না। এখানে আপনি জানতে পারবেন ডিপ্রেশন, হতাশা বা বিষণ্ণতা দূর করার ১০টি কার্যকরী উপায়।

 

বিষণ্ণতা কি শুধুই একটি মন খারাপ নাকি এটি একটি রোগ? অনেক সময় ছোট খাটো ব্যপারে আমাদের মন খারাপ হওয়াটা স্বাভাবিক, হ্যাঁ এইটা আসলে রোগ না। যখন এই মন খারাপটা এত বেশি হতে থাকে যে দিনের পর দিন মাসের পর মাস আপনার খেতে ভালো লাগছে না, কথা বলতে ভালো লাগছে না, একা থাকতে ভালো লাগছে, ঘুম হচ্ছে না পড়াশোনায় মনোযোগী হচ্ছে না শরীরে কোন রকমই ভালো নেই, কোন কাজ অব্দি করতে পারছি না তখন ধীরে ধীরে একটা রোগে পরিণত হয়ে যায়।

কোন কাজ করতে গিয়ে ভয় পেলে, এত সহজেই সফলতা পাওয়া যাবে না। টেনশন বা দুশ্চিন্তা মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এটি যেন মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। টেনশন ছাড়া মানুষের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া আজকাল কঠিন ব্যাপার!

০১। রিসার্চ করে সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করুন

সফল হওয়ার জন্য অবশ্যই আপনার সিদ্ধান্ত গুলো উপযুক্ত হতে হবে উপযুক্ত সময়ে। কথা আছে, সময়ের একফোঁড় অসময়ের দশফোঁড়। অর্থাৎ সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে শিখুন। আর অবশ্যই রিসার্চ করে নিবেন। অর্থাৎ আপনি যে লক্ষ্যটা নিয়ে আগাচ্ছেন বা যা নিয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চাচ্ছেন, তার ভবিষ্যৎ কেমন এবং বর্তমানে এই পেশার চাহিদা কেমন হচ্ছে ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে ভালো ভাবে জেনে সঠিক একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।

০২। কাজ গুলোকে ছোট ছোট ভাগ করে নিন

সাধারণত আমরা বাঙালিরা একটানা কাজে লেগে থাকতে পারি না, খুব সহজেই সাফল্য পেতে চাই। সাফল্য না পেয়ে মাঝপথে এসেই নানান সমস্যা দেখা দেয়। সেই সমস্যার অজুহাত দেখিয়ে ডিপ্রেশনে পরে যায় এবং অনেকে কাজ ও লক্ষ্য সবকিছু ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। তাই কাজ গুলোকে দৈনিক ছোট ছোট ভাগ করে নিন, কখন কোন সময় কতটুকু কাজ করলে আপনার বেষ্ট আউটপুট আসবে সেগুল বিবেচনা করে কাজ গুলোকে ভাগ করে নেন। তাহলে দেখবেন কাজে বিরক্ত আসবে না, একটানা লেগে থাকতে পারবেন। এবং নির্দিষ্ট একটা সময়ে ঠিকই সাফল্যের চুড়ায় পৌঁছে যাবেন।

০৩। সফল মানুষদের অনুসরণ করা শিখুন

হ্যাঁ, ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা দূর করার উপায় গুলোর মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা উপায় হচ্ছে সফল মানুষদের অনুসরণ করা, তাদেরকে নিয়ে কেস স্টাডি করা, তাদের সঠিক ও কার্যকরী পরামর্শ গুলো গ্রহণ করা। তাদের অনুপ্রেরণায় দীর্ঘসময় কাজে লেগে থাকতে পারবেন।

০৪। মৃত্যুর কথা চিন্তা করে কাজ করুন

মৃত্যুর কথা চিন্তা করে কাজ করলে, সফল হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে এবং কাজের স্পীড বেড়ে যায়। স্টিভ জবস বলেছিলেন, আমি প্রতিদিন আয়নার সামনে দারিয়ে বলতে, আমি যা যা করতে যাচ্ছি, যেসব প্লানিং নিয়ে এগোচ্ছ, যদি আজকেই আমি মরে যায়, তাহলে যা যা করতে চাচ্ছিলাম, ঠিক তা হবে তো? না আমাকে আরও দ্রুত কাজ করতে হবে, আর কাজের প্রতি ভালোবাসা রেখে যথেষ্ট কাজ করে যান

০৫। কখনো নিজেকে দুর্বল ভাববেন না

সবসময় নিজেকে শক্তিশালী ভাবুন, আমি পারবো, আমাকে পারতে হবে, আমার দ্বারা এই কাজটি সম্পন্ন হবে এইরকম দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন। নিজেকে দুর্বল ভাববেন না কখনো। শক্ত হতে হবে। শক্ত হওয়া ছাড়া এই পৃথিবীতে টিকে থাকা খুবই কঠিন, সাফল্য তো দূরের কথা। যেকোনো কাজে নিজেকে প্রস্তত রাখুন সবসময়, দেখবেন ডিপ্রেশন আপনাকে ধরতে পারবে না।

০৬। ব্যর্থতা আসলে আবার ঠিকভাবে শুরু করুন

কাজে ব্যর্থতা আসবেই, তাই বলে হেরে গেলে চলবে না। ব্যর্থতা আসলে আবার ঠিকভাবে শুরু করুন। কেন ব্যর্থতা এসেছে এর কারণ খুঁজে বের করুন। নিজের জীবনকে আলোকিত করে তুলতে বেশ কিছু কাজ কিংবা অভ্যাস পরিবর্তন করলেই আমরা নিজেকে বদলাতে পারি। ব্যর্থতা মানে যে সব শেষ, এমনটা কখনোই ভাববেন না। কোনো কাজে ব্যর্থ হলে ব্যর্থতা থেকে নতুন কিছু শেখার যথেষ্ট প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

০৭ । কঠোর পরিশ্রম করুন ও কাজে লেগে থাকুন

ডিপ্রেশনে বা বিষণ্ণতায় থাকার অনেক কারণ গুলো মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কঠোর পরিশ্রম না করা এবং কাজে লেগে না থাকতে পারা। মনে রাখতে হবে যতই বাঁধাই আসুক না কেন, যত সমস্যায় আসুক না কেন, আপনাকে কাজে লেগে থাকতে হবে, কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। তাহলে বিষণ্ণতা আপনাকে কিছুই করতে পারবে না।